দিনাজপুরের দরিদ্র মুসলিম পরিবারের সন্তান মো: সুলতান সাবালকত্ব প্রাপ্তির পর্যায়ে বাবাকে হারায়। পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় এবং লেখাপড়া না থাকায় আইসক্রিমের বাক্স কাঁধে নেন, সেই সাথে ধরেন সংসারের হাল। যৌবনে পা রেখে বিয়ে করেন, দুই বোনকে বিয়ে দেন। সময়ের পরিক্রমায় বক্সে করে বিক্রি করা অইসক্রিমের চাহিদা কমে।
বাধ্য হয়ে ব্যবসা পরিবর্তন করেন, শুরু করেন ভাড়া করা রিক্সা চালানো। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে রিক্সার জমার টাকা পরিশোধ করে সুলতান তার মা, স্ত্রী এবং ঘর আলো করে আসা দুই সন্তানের ভরণ পোষণ করতে থাকেন। সংসারের চাহিদা মেটাতে স্ত্রীও শুরু করেন ছাত্র মেসে রান্না করার কাজ।
যুগের চাহিদায় ও বেশি অর্থের প্রয়োজনে আবারও পেশা পরিবর্তন করে ভাড়ায় ইজিবাইক চালানো শুরু করে সুলতান। ভালোই চলছিল দিনগুলো, বিভিন্ন সুহৃদ ব্যক্তিদের সহায়তায় তার ছেলে মেয়ে দুজনকেই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের লেখাপড়া চালিয়ে নিচ্ছিল আর্থিক টানাপোড়েন সত্বেও। করোনা মহামারীর কারণে ইজিবাইক চালানো বন্ধ হয়ে গেলে সুলতানের পরিবারে নেমে আসে মহা বিপর্যয়। একজন সুহৃদ প্রায় ছয় (৬) মাস সুলতানের পরিবারের দায়িত্ব বহন করার পর্যায়ে তাকে স্বাবলম্বি করতে একটি হাতবদলকৃত ইজিবাইক কিনে দেন।
গত তিন (৩) বছরে সেই অর্থ পরিশোধ (সুদ বিহীন মূল টাকা) করার পূর্বেই ইজিবাইকটি নষ্ট হয়ে যায়। এরপর সে পুরাতন ইজিবাইক ও আরোও কিছু অতিরিক্ত অর্থের (ঋণ করে সংগৃহীত) বিনিময়ে নতুন ইজিবাইক ক্রয় করে। কিন্ত গত প্রায় তিন (৩) মাস যাবৎ সে অসুস্থতাজনিত কারনে শয্যাশায়ী। ইজিবাইক চালিয়ে ঋণের কিস্তিতো দূরে থাক সংসারের ব্যয় নির্বাহ করাই সম্ভব হচ্ছিল না। এই দিকে ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে ইজিবাইকটি বিক্রি করে সর্বস্ব হাড়ানোর ঝুঁকিতে পরে সে, আত্মনির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে অনিশ্চিয়তা দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে তার পাশে দাঁড়ায় কেএফএইচ।
কেএফএইচ যাকাত ফান্ড হতে ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে ঋণের সমুদয় অর্থ তুলে দেয়া হয় তার হাতে। ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে সুলতান এখন ইজিবাইকটির স্বত্ত্বাধিকারী। নিজের ইজিবাইকের আয়ে সংসারের হাল ধরবেন, স্বনির্ভর হবেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করে সুস্থ্য হয়ে উঠবেন, ইনশাআল্লাহ। আপনাদের প্রদত্ত যাকাতের কারণে সে আজ নতুন করে স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
প্রফেসর ড. মো. মহিদুল হাসান, হাবিপ্রবি-এর সুপারিশে এবং তত্ত্বাবধায়নে ঋণ পরিশোধ শেষে ইজিবাইকটি মো: সুলতানকে বুঝিয়ে দেয়ায় কেএফএইচ যাকাত কমিটি-২০২৩ তাঁকে কৃতজ্ঞতার সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।